লম্বা হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম
জিনতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভেবে থাকি যে আমদের বৃদ্ধি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমাদের বংশের উপর। অর্থাৎ আমরা বংশগত ভাবে ঠিক যতটুকু বৃদ্ধি পাবো তার থেকে এক চুলও বেড়ে উঠা সম্বভ নয়। তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত যে আপনার বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে আপনার বংশের উপর। আর বাকি ২০% ই আপনার উপর বা অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর। তাহলে দাঁড়ায় যে যদি একজন ব্যক্তির উচ্চতা হয় ৫ফুট তাহলে তার উচ্চতা ২০% করলে হয় ১ফুট আর এর থেকে পরিবেশ গত ভাবে ৬ ইঞ্চি ধরলেও আরও ৬ইঞ্চি নিজে বাড়ার জন্য থেকে যায়।
The School of Medicine of the University of Southern California in Los Angeles এর একদল চিকিৎসক যাদের দলনেতা ডঃ মিচেল ই জেনিফার, তারা কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা চালিয়ে একটি চূড়ান্ত উচ্চতার পূর্বাভাস সূত্র প্রকাশ করেছেন। তা হলঃ-
মেয়েদের জন্য: [(পিতার উচ্চতা - 5 ইঞ্চি) + মা এর উচ্চতা] দুই দ্বারা বিভক্ত
ছেলেদের জন্য: [(মায়ের উচ্চতা + 5 ইঞ্চি) + পিতার উচ্চতা] দুই দ্বারা বিভক্ত
তবে সকল ক্ষেত্রে যে তা হবে সেটা কিন্তু নয়।
আপনারা সবাই জানেন যে জেনেটিক্স এবং পুষ্টির মাধ্যমে উচ্চতা রয়েছে। বেশী পরিমাণ ক্যালরি, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন খাদ্যাভ্যাস যা আপনার নতুন কোষ এবং হাড় নির্মাণ 'উপকরণ' এবং সেলের গঠন নির্মাণে সহায়তা করবে। এছাড়াও দিনে আট ঘন্টা ঘুম আপনার বৃদ্ধি ক্ষমতা বাড়াতে আরো সহায়তা করবে। এখন ব্যপার হল আপনি দিনে আট ঘন্টা কেন ষোল ঘন্টা ঘুমান তারপর আবার পরিমান মত খাবারও খান এর পর যথাযত উচ্চতা লাভ হচ্ছে না বা আপনি তার উপর সন্তুষ্ট না।
তাই এবার আপনাদেরকে দেখানো হবে কিভাবে আপনি আপনার শরীরের ৯৯% উচ্চতা বৃদ্ধি করবেন। আসলে এটি একটি প্রক্রিয়া যা আপনি আপনার সর্বাধিক সম্ভাব্য বৃদ্ধি নিতে সাহায্য করবে।
এই উপাদান কি?
আপনার উচ্চতা বাড়ার মূল উপাদান হল একটি পদার্থ যা আমাদের শরীরের প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং এটাকে বলা হয়: মানুষের গ্রোথ হরমোন। এটি একটি হরমোন যে আপনার শরীরের উত্পাদন (ভালো টেসটোসটের এবং ইস্ট্রজেন) শুধু তাই নয় উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী - এই বায়োকেমিক্যাল রসূল যার মাধ্যমে আপনি লম্বা হন, এটি আপনার শরীরের হাড় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় এবং আপনার কোষ প্রয়োজনিও সেল গুলিকে দ্রুততর বিভক্ত করে। এটা 1920 এর মধ্যে প্রথম আবিষ্কৃত হয় এবং এর উচ্চতা বৃদ্ধির উপকারিতা শুধুমাত্র সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে।
আপনি কি জানেন যে দ্রুত বড় হওয়া শিশুদের হরমোন স্বাভাবিক বড় হওয়া শিশুদের থেকে খুব উচ্চ স্তরের আছে। তাই, এখানে আপনাদেরকে বলা হবে কিভাবে আপনি আপনার হরমোনকে সেই স্তরে নিয়ে যাবেন যা আপনার পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।
হরমোনের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি সংক্রান্ত মাত্রা পদ্ধতি খুব কার্যকর, বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ!
৮ সহজ স্বাভাবিকভা উপায়ে উচ্চতা বৃদ্ধি
১. এই বৃদ্ধি পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশন দ্বারা মানবদেহে হরমোন বৃদ্ধি করা হয়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ বেআইনি যার কারনে একজন ডাক্তার কখনই আপনাকে এরকম কিছু প্রেস্ক্রাইব করবে না, এবং এটি খুবই ব্যায়বহুল যার কারনে আমিও আপনাকে সাজেশ করব না।
২. দুধ পান আপনাকে লম্বা হওয়ায় অনেক সাহায্য করবে কারণ ক্যালসিয়াম আপনার শরীররের হাড় এর বৃদ্ধি ঘটায়, আরেকটা বেপার যা আমাদের দেশে নেই সেটা হল আমেরিকায় তাদের গরু মধ্যে বিভিন্ন হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় যার মাধ্যমে - হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি হয়, এবং সেই প্রকিয়াজাতকরন দুধ হয় সাধারণ দুধ এর বিকল্প।
৩. নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম (ওজন উদ্ধরণ) হরমোন (HGH) বৃদ্ধি করে। এটি বৃদ্ধি সংক্রান্ত হরমোনের মাত্রা আরও উন্নত করার জন্য বহুল পরিচিত এবং পদ্ধতি খুবই কার্যকর. আর অতিরিক্ত পেশী আপনাকে আরো সাহয্য করবে আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী হতে।
৪. তীব্র sprinting ব্যায়াম মানব বৃদ্ধির হরমোনে একটি বিস্ফোরণ ঘটায় এছাড়াও আপনার হরমোনকে আরও উন্নত করে। আসলে, যে কোনো কঠিন শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করবে। তবে অবশ্যই সেটা ২১বছর বয়স হওয়ার পর।
৫. Niacin supplementation : Niacin একটি প্রাকৃতিক ভিটামিন নামক ভিটামিন B3. একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ৫০০গ্রাম নিয়াসিন নেওয়া মানুষের থেকে সাধারণ মানুষের বৃদ্ধি কম ঘটে।
৬.মানসিক চাপ কমানঃ স্ট্রেস বা মানসিক চাপ যা হচ্ছে আপনার লম্বা বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাঁধা। যাতে আপনার হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উত্পাদিত হয়। ভিটামিন C সম্পূরকসমূহ যা করটিসল কমাতে জোর সহায়তা করে।
৮. ঘুমঃ কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘমানো । এটি সবচেয়ে সহজ এবং অনেক কার্যকরী উপায়। সঠিক এবং সুন্দর ভাবে ঘোমানো আপনার দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলে।
তবে আপনাকে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে ঃ
ড্রাগ এবং এলকোহল এই ২টিই আপনার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক বড় বাঁধা। ধূমপান যেমনি সাস্থের জন্য ক্ষতিকর তেমনি দেহের হরমোন গঠনও কমিয়ে ফেলে। ( জানি এ বেপারটা আপনাদের অনেকেরই ভাল লাগেনি। তবুও এটি সত্য)
তবে ১৮ বছরের পর যারা তাদের উচ্চতা বারানোর জন্য বিস্তারিত এখানে দেখে আসতে পারেন। নেট এ সার্চ দিয়ে আরও অনেক ফলাফল পাবেন।
এবার আপনাদের লম্বা হওয়ার জন্য বায়মের কিছু স্টেপ দেখাব যেগুলো আপনি প্রতিদিন করলে মাত্র ৬ সপ্তাহের মাথায় আপনার উপকারিতা দেখতে পাবেন।
step-1
'সুন্দর মুখশ্রী সেই সাথে একহারা লম্বা গড়ন' বা 'দেখতে শুনতে অনেক আকর্ষণীয় সেই সাথে মানানসই উচ্চতা'- কথাগুলো অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে বলার চাইতে অন্য কেউ যদি আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলে তবে শুনতে কতই না ভাল লাগে। চেহারা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে আছে নানা রকম ব্যবস্থা, নানান রকম সাজ সজ্জার বাহার। কিন্তু সমস্যায় পড়তে হয় যখন আপনার উচ্চতাটা হয় না মন মতন, তাই না? নারী বা পুরুষভেদে কম উচ্চতার মানুষেরা উঁচু জুতা বা স্যান্ডাল পরে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারলেও সেটা হয় সাময়িক। আর আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে যেহেতু পরিবেশ ও বংশগত কারণে উচ্চতা খুব একটা বেশি হয় না তাই লম্বা হওয়া নিয়ে কমবেশি সকলের মাঝেই থেকে যায় কিছুটা আক্ষেপ।
মজার ব্যাপার হলো আপনি কতটুকু লম্বা হবেন তা কিন্তু আপনার বংশগতি থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। তার সাথে প্রভাব থাকে আপনার আশেপাশের পরিবেশের। আপনার পূর্বপুরুষ এবং আশেপাশের মানুষের বংশগতভাবে চলে আসা উচ্চতার ধারা যদি খুব একটা বেশি না হয়, সেক্ষেত্রে আপনার উচ্চতা খুব একটা বেশি হবার সম্ভাবনা বেশ কিছুটা কমে আসে। এছাড়াও একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে মানুষের স্বাভাবিক বৃদ্ধির বন্ধ হয়ে যায়, ফলে উচ্চতা আর বৃদ্ধি পায়না। আপনি যখন সেই বয়সটি অতিক্রম করে যাবেন তখন উচ্চতা বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে। সাধারণত বলা হয়ে থাকে ২৫ এর পরে শারীরিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। এসকল বিষয় মূলত দায়ী আপনার উচ্চতা কত হবে তার জন্য।
তবে আপনি যদি উচতায় কম হন এর মানে এই নয় যে আপনি আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারবেন না। কিছু অভ্যাস ত্যাগ ও গ্রহন করে সেই সাথে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে বাড়িয়ে নিতে পারেন আপনার উচ্চতা। আসুন জেনে নেই কিভাবে উচ্চতা বাড়াতে পারেন সে সম্পর্কে-
১) খেতে হবে সুষম খাদ্যঃ
উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে খাবারের প্রতি। খেতে হবে সুষম খাদ্য যাতে থাকবে শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, মিনারেল, স্নেহ জাতীয় পদার্থের সঠিক অনুপাত। দেহ সঠিকভাবে পুষ্টি পেলেই একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
২) নিয়মিত খান ক্যালসিয়ামঃ
খেতে হবে দুধ ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের গঠনতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে আপনাকে দিবে সুন্দর দৈহিক গঠন। আপনার দৈহিক গঠন সুন্দর হলে আপনাকে লম্বা দেখাবে।
৩) নিতে হবে বিশ্রামঃ
উচ্চতা বাড়ানোর জন্য সঠিক পরিমাণে বিশ্রাম নেয়াটাও সমপরিমাণে অপরিহার্য। ঘুমের মাঝে শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, সেই সাথে শারীরিক সব ত্রুটি মেরামত হয়ে থাকে ঘুমের মাঝেই। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির, বিশেষ করে কম বয়সীদের উচিৎ গড়ে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে বিশ্রাম নেয়া।
৪)নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ
উচ্চতা বাড়ানোর অন্যতম ভাল উপায় হল নিয়মিত ব্যায়াম করা। ব্যায়াম বা খেলাধূলা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমে শুরু করতে পারেন বেশ কিছু স্ত্রেচিং দ্বারা। ধীরে, ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়িয়ে নিন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের বিভিন্ন জোড়াগুলোতে ভাল প্রভাব পড়ে ফলে উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৫) ত্যাগ করুন বদভ্যাসঃ
শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন বদভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করুন। মাত্রাতিরিক্ত চা বা কফি কোনটাই খাবেন না। এগুলো শরীরের উপরে বাজে প্রভাব ফেলে যা পরবর্তীতে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তাও ত্যাগ করতে হবে। বোতলজাত জুস ও কোমলপানীয়ও আপনার শরীরের একইভাবে ক্ষতি সাধন করে। তাই এগুলোও ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। এসবের বদলে খেতে পারেন গ্রিন টি বা তাজা ফলের জুস। এতে পাবেন আপনার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সেই সাথে ক্ষতির ভয় থাকবেনা এসব গ্রহন করলে।
৬) খেতে হবে বুঝে শুনেঃ
খাবার সময় বেছে চলার চেষ্টা করবেন। এমন খাদ্য গ্রহন করবেন না যা আপনার শারীরিক বৃদ্ধির উপরে চাপ ফেলে। যেমন অতিরিক্ত রেড মিট গ্রহন করা খুব ক্ষতিকর। সেই সাথে তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার আপনার শারীরিক বৃদ্ধিতে বাজে প্রভাব ফেলে তাই এসব যতটা সম্ভব ত্যাগ করাই ভাল।
৭) চর্চা করুন শ্বাসপ্রশ্বাসেরঃ
স্বাভাবিক নয়, শ্বাস নিন গভীরভাবে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহন ও বর্জন করলে তা শারীরিক নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অনেকাংশেই। যেহেতু সব সময় গভীরভাবে শ্বাস নেয়া সম্ভব নয় তাই দিনের যেকোনো একটি সময় নির্বাচন করে গভীরভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার ব্যায়াম করুন। চাইলে মেডিটেশন করতে পারেন কারণ মেডিটেশনও একই ফল দেয়।
৮) সঠিক দেহভঙ্গিঃ
যদি আপনার বয়স ২৫ অতিক্রম করে থাকে এবং নিজের উচ্চতা আপনার কাছে যথেষ্ট বলে মনে না হয় তবে মন খারাপ করে বসে যাবেন না। আর সবার মত আপনিও নিজেকে লম্বা হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। এ জন্য দরকার শুধু একটু মাথা খাটানোর। আপনার দেহভঙ্গির প্রতি নজর দিন। ঘাড় ও পিঠ সোজা করে হাঁটুন। বসার সময়েও সোজা হয়ে বসুন। মাথা সোজা রাখুন। কুঁজো হয়ে ও নিচু হয়ে হাটা বা বসার অভ্যাস থাকলে নিয়মিত সোজা হয়ে চলাফেরা ও বসার চর্চা চালিয়ে যান। আপনার দেহভঙ্গি উদ্ধত হলে আপনাকে দেখতে লম্বা দেখাবে।
৯) কমিয়ে নিন ওজনঃ
আপনার ওজন বেশি থাকলে কিন্তু আপনাকে খাটো দেখাবে। সেক্ষেত্রে সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ওজন কমিয়ে নিন। ওজন কমে গেলে আপনাকে অনেকটাই লম্বা দেখাবে।
১০) পোশাক নির্বাচনঃ
আপনার নিজের উচ্চতাকে বাড়িয়ে তুলে ধরতে যে জিনিসটি সব থেকে বেশি কাজ করবে তা হল আপনার সাজপোশাক। সঠিক পোশাক নির্বাচন করতে পারলে তা আপনাকে দিতে পারে লম্বা হবার অনুভূতি। মেয়েদের ক্ষেত্রে শাড়ি পরলে স্ট্রাইপ, ও ছোট প্রিন্টের মধ্যে জর্জেট, লিলেন, শিফন ইত্যাদি বেছে নিন ভারি কাজ করা শাড়ির বদলে। সালোওয়ার কামিজ ও ফতুয়ার ক্ষেত্রে লম্বা ও বডি হাগিং ধাঁচের হলে ভাল লাগবে। রঙ হিসেবে গাঢ় রঙ বেছে নিতে পারেন। পায়ে থাকতে পারে হিল জাতীয় জুতা বা স্যান্ডাল। পুরুষদের জন্য জুতা হতে পারে হিল সমৃদ্ধ। সাথে শার্ট হতে পারে টাইট ফিটিঙের। পরতে পারেন স্ট্রাইপ ও চেক। মোটাদের ক্ষেত্রে কাপড় কিছুটা ঢিলা এবং লম্বা মাপের হল ভাল লাগবে। এতে মোটাভাব ঢেকে গিয়ে শুকনা ও লম্বা দেখাবে।
"লম্বা হওয়ার প্রয়োজনীয় কিছু টিপস"
একটু ভাল লম্বা চওড়া ফিগার কে না চায়। এমনকি যার বেশ ভালো লম্বা তাদেরও মনে হয় আরও ১-২ ইঞ্চি লম্বা হতে পারলে বেশ ভাল মানাত! আসলে আমরা কতটুকু লম্বা হবো তা আমাদের বংশগতি থেকেই নির্ধারিত হয়। তবে একথাও ঠিক আমাদের পূর্বপুরুষেরা লম্বা হলেও আমরা যদি অপুষ্টিতে ভূগি তবে আমাদের বৃদ্ধি ঠিকমত হবে না। আর মানুষের দেহের বৃদ্ধি ঘটে ২৫ বছর বয়স পর্যন্তই। তাই কিশোরকাল থেকেই এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনটি জিনিসের সমন্বয় লম্বা হতে সাহায্য করবে:-
১. পুষ্টিকর খাবার
২. নিয়মিত ব্যায়াম
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম
কী, কী থাকতে হবে খাবার তালিকায়:
* মিনারেলস:
পর্যাপ্ত পরিমান বিভিন্ন রকমের মিনারেল আমাদের খাবার তালিকায় রাখতে হবে। আমাদের দেহে প্রতিটি কাজে মিনারেলের ভূমিকা রয়েছে ।হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে মিনারেল একান্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। বিষেশভাবে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যেন পরিমাণ মত গ্রহণ করা হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ছোট মাছ, খেজুর, বাধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, পালং শাক, পুই শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াসম আছে। দুগ্ধজাত খাবার, মাছ, মাংস, এমনকি সবজিতেও ফসফরাস রয়েছে। আয়রন পাওয়া যায় খেজুর, ডিমের কুসম, কলিজা, গরুর মাংসে। ম্যাগনেসিয়াম আছে আপেল, জাম্বুরা, ডুমুর, লেবু ইত্যাদিতে। জিন্ক পাওয়া যায় ডিম, সূর্যমূখীর বীচিতে।
* ভিটামিন:
আমাদের প্রয়োজনীয় সব রকমের ভিটামিনই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু খাবারের ভিটামিন দেহে কতটুকু গৃহিত হচ্ছে তা বোঝা বেশ কঠিন। তাই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভিটামিন-বি১ আছে চীনা বাদাম, লাল চাল,গমে। ভিটামিন-বি২ আছে মাছ, ডিম, দুধে। ভিটামিন-বি৬ রয়েছে বাধাকপি, কলিজা, গরুর মাংসে। ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় মাছের তেল, দুগ্ধজাত খবার থেকে। ভিটামিন-ই আছে ডিম, সয়াবিন, গমে। ভিটামিন-এ আছে ডিমের কুসুম, গাজর, দুধ ও কলিজায়।
* প্রোটিন:
হাড়ের বৃদ্ধির সাথে, সাথে মাংসপেশীরও বৃদ্ধি পেতে হবে লম্বা হওয়ার জন্য। আর মাংস পেশির বৃদ্ধি ও মজবুত হওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রোটিন। খাবার তালিকায় ভাল মানের প্রোটিন যেমন- মাছ, মাংস, ডিম রাখুন। বিভিন্ন রকমের ডাল, মটরশুটি, সীমের বীচি, কাঠালের বীচি ইত্যাদি থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়। খাবার তালিকায় সয়া প্রোটিন, বিভিন্ন রকমের প্রোটিন সেইক যোগ করতে পারেন।
* কার্বোহাইড্রেট:
অনেকেই লম্বা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে থাকেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট লম্বা হওয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। কারণ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ মানে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ। এর ফলে ইনসুলিন নামক হরমোনও নিঃসৃত হবে বেশি। ইনসুলিন দেহের গ্রোথ হরমনের কার্যকারীতা কমিয়ে দেয়। তাই খাবার তালিকায় লাল আটা, লাল চাল, ওট ইত্যাদি রাখুন ময়দা, সাদা আটা, পলিশ চালের পরিবর্তে।
* পানি:
পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে, কম হলেও ২ লিটার প্রতিদিন।
যেসব কারণে লম্বা হওয়া বাধা পায়:-
* ঘুমের অভাব- দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন
* খেলা-ধূলা করা-বাস্কেট বল, ভলিবল খেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন
* দড়ি লাফের মতো সাধারণ ব্যায়াম শুরু করুন
* অপুষ্টি-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন
* দেহের কোনো অংশে অসঙ্গতি থাকলে, ফিজিওথেরাপিষ্টের সাহায্য নিতে হবে
* যে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে:-
মদ্যপান ও ধূমপানসহ সব ধরণের মাদকের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। কারণ এগুলো দেহের হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করে।



ডগডগ সহচর